সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
স্বপ্নময় হোক শিশুদের জীবনঃ পলাশ এক বিষয়ে ফেল করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মডেল মসজিদগুলো হতে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী প্রচার হবে: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও প্রফেশনালে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে হবে এসএসসি পরীক্ষা : শিক্ষাবোর্ড পাকিস্তানের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ৬ দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদঃ পলাশ ইসরায়েলে কনসার্ট বর্জন করলেন ৬০০ আন্তর্জাতিক শিল্পী বিসিবি সভাপতি পাপনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা- আলীগঞ্জ ক্লাব সভাপতি পলাশ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় বেড়েছে মৃত্যু আমার কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মেসেজ বেশি আছে: শিক্ষামন্ত্রী

এক বিষয়ে ফেল করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান গত ৬ মে অবৈধভাবে ১১ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ইন্দ্রনীল মিশ্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ইন্দ্রনীল মিশ্র অনার্সে (স্নাতক) প্রথম বিভাগে পাস তো করেনইনি, যে ১৪ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বিভাগ পেয়েছিলেন সেখানেও তাঁর অবস্থান দশম। আবার তিনি সম্মান শ্রেণির একটি কোর্সে অকৃতকার্যও হয়েছিলেন।

ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এমদাদুল হক ইন্দ্রনীল মিশ্রের পরীক্ষার খারাপ ফলাফলের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলছেন, তাঁরা শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত তিন বছর আগে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, তার শর্ত অনুযায়ী ইন্দ্রনীলের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নেই।

আর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বলেন, কোনো একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলে এবং বিজ্ঞাপিত পদের যোগ্যতা থাকলে তিনি শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে অকৃতকার্য হওয়া একজন ছাত্রের জন্য ভালো নয়।

খোঁজ নিয়ে ইন্দ্রনীল মিশ্রের পরীক্ষার ফলাফল শিটে দেখা গেছে, ইন্দ্রনীল মিশ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১০ সালের মাস্টার্স পরীক্ষা ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর অবস্থান পঞ্চম। তাঁর ২০০৯ সালের সম্মান পরীক্ষা ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর অবস্থান দশম। এই ফলাফলে দেখা যায়, সম্মান শ্রেণির ৪০৩ নম্বর কোর্সে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইন্দ্রনীল মিশ্রের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্রকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর ছেলের ফোন নম্বর না পাওয়ায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ইন্দ্রনীল মিশ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে আবদুস সোবহান উপাচার্য হিসেবে শেষ কর্মদিবসে (৬ মে) ১৩৮ জনকে অ্যাডহকে (অস্থায়ী) নিয়োগ দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। সেদিন এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে সেদিনই বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তদন্ত করে গত ২৩ মে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। শেষ অবৈধ নিয়োগে তদন্ত কমিটি বিদায়ী উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। আবদুস সোবহানের দেশ ত্যাগেও নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed by M Host BD