বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

এসপি হারুনের বদলি- সন্ত্রাসীদের স্বস্তি, জনমনে আতঙ্ক | পূর্ণবহালের দাবি নগরবাসীর

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্ক:

২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ যোগদান করেন এসপি হারুন।  ১১ মাসের মাথায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে এসপি (টিআর) বদিল করা হয়। এই ১১ মাস নারায়ণগঞ্জ থাকাকালে এসপি হারুন জন্ম দিয়েছেন অনেক দুঃসাহসী কর্মকান্ডের নজিরবীহিন ইতিহাস। নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। তার হঠাৎ করে প্রত্যাহার হওয়ায় অনেকে বিস্মিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বাসী। নারায়ণগঞ্জে এসপি হারুনের বদলি এখন টক অফ দ্য টাউন।

২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে কিছু দিন আগে তার যোগদানকে অনেকে ভিন্নভাবে দেখে। ২১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে বন্দরে একটি নির্বাচনী সভায় যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহর। তখন এসপি হারুন নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে মির্জা ফখরুলকে পুলিশ পাহারায় জনসভার স্থলে পৌঁছে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন এবং সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হন।

এছাড়াও এসপি হারুনের আরো অনেক দুঃসাহসী কর্মকান্ডের কিছু খন্ডচিত্র তুলে ধরা হলো:

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের কঠোর অবস্থানে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্বৃত্তদের মধ্যে তখন আতঙ্ক দেখা দেয়। নানা কারণে আলোচিত নারায়ণগঞ্জ ধীরে ধীরে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত শহরে রুপ নেওয়া শুরু করে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জোরালো অভিযানে স্বস্তিতে ছিলো নগরবাসী। অভিযানে ধন্যবাদ জানিয়ে ঐ অভিযান অব্যাহত রাখার দাবিও জানিয়েছেলো নগরবাসী।

এরপর একের পর এক সন্ত্রাস নির্মূল প্রজেক্ট শুরু করে সাহসী এই পুলিশ সুপার নারায়নগঞ্জ বাসীর হিরো এসপি হারুন।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের পাগলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর হোসেন মীরুকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসী,  চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ ১১টি মামলা রয়েছে। মীরু মানুষ খুনের পর লাশ টুকরা টুকরা করে পাগলার পুকুরে মাছকে খাওয়ানোর জন্য ফেলে দিত। মীরু ওই এলাকার মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। তার গ্রেপ্তারে ফতুল্লা এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল।

 

৭ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি শাহ্ আলম গাজী ওরফে টেনু গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। টেনু গাজী এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াত। তার অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। তার বিরুদ্ধে এলাকার সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

নগরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিআইডাব্লিউটিএ এলাকায় জুয়ার বোর্ডে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪১ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে। জুয়াড়ি স্থানীয় জনৈক সাংবাদিক রাজু আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে বলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে।

 

১১ মার্চ ফতুল্লার লঞ্চঘাট এলাকায় চোরাই জ্বালানি তেলের আস্তানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই জ্বালানিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে চোরাই তেলের ব্যবসার মূল হোতা ইকবাল হোসেনও ছিল। এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়। ইকবাল হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় তেল চুরি ও বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে।

 

১ এপ্রিল রাতে ফতুল্লার পাগলা বাজার মেরিএন্ডারসন থেকে বিপুল মদ বিয়ারসহ ৬৮ জনকে আটক করে পুলিশ।

 

এর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে ২৯ মার্চ জিডি করে ফতুল্লা থানার ওসি শাহ মঞ্জুর কাদের। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ হোসিয়ারি সামিতির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নাজমুল আলম সজলকে একটি অপহরণ মামলায় জড়ানো হয়। এ ছাড়া মারামারির ঘটনায় দুইজন কাউন্সিলরকে মানুষের সামনে হাতকড়া পরিয়ে বিরত্ত্বের সাথে থানায় নিয়ে যায়।

 

নগরবাসী জানিয়েছে, পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ যোগদানের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি বন্ধ হয়েছে। মাদক কারবারিরা আতঙ্কে আত্মগোপন ও গাঢাকা দিয়েছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদুস্য, ঝুট ব্যবসায়ীরা চোরাই তেলের কারবারি, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের ছাড় না দেওয়ায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

তবে বর্তমানে নগরবাসী তার  এই প্রত্যাহারে মর্মাহত এবং জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নগরবাসীর সরকারের কাছে পুলিশ সুপার হারুনের প্রত্যাহার অভিলম্বে বাতিল করে তার পদে পূর্নবহালের দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD