শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দেশবরেণ্য ফুটবলার বাদল রায়ের মৃত্যুতে পলাশের শোক প্রকাশ শ্রমিকলীগ সভাপতি ফজলুল হকের মৃত্যুতে শ্রমিকনেতা পলাশের শোক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পলাশ বাংলাদেশিদের দুই ঘণ্টার সাইবার হামলায় নাস্তানাবুদ ফ্রান্সের সেই ওয়েবসাইট কাউন্সিলর পদ থেকে ইরফান সেলিমকে বরখাস্ত হাজি সেলিমের দখল থেকে অগ্রণী ব্যাংকের জমি উদ্ধার রাসুল(সা.) কে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী পত্রিকা শার্লি এবদোর উপর সাইবার আক্রমন চলছে হাজী সেলিমের ছেলে গ্রেপ্তার বিশ্বনবীর অবমাননায় ফ্রান্সের বানিজ্যিক ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘সাইবার ৭১’ নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে কারখানায় গলিত লোহা শরীরে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

জোয়াড়ের হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায়

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

সুপার সাইক্লোন আম্পানের কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে খুলনার কয়রা উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে সেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়েই আদায় করেছেন পবিত্র ঈদের নামাজ।

সকাল সাড়ে ১০টায় কয়রা উপজেলার ২নং কয়রা নদী ভাঙন পাড়ে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন কয়রার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আ খ ম তমিজ উদ্দিন। নামাজ শেষে সেমাই খেয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরি করতে নামেন এলাকাবাসী। দুপুরে তাদের জন্য ছিল খিঁচুড়ির আয়োজন। খবর ইউএনবির

নামাজ শুরুর আগে কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি লণ্ডভণ্ড কয়রার দুর্বিসহ অবস্থা তুলে ধরেন এবং মজবুত বাঁধ নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ বাঁধার কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার অন্যরকম এক ঈদ পালন করছি আমরা। স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণে এসে জোয়ারের পানি যখন হাঁটুপানি পর্যন্ত পৌছায় তখই শুরু হয় ঈদের নামাজ। প্রায় ৬ হাজার মানুষ নামাজে অংশগ্রহণ করেন। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবার জন্য ঈদের সেমাইয়ের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া দুপুরে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে খিচুরির ব্যবস্থা করেছি।’

ছবি: ইউএনবি

উল্লেখ্য, কয়রা পাউবোর ১৩/১৪-১ ও ১৩/১৪-২ নম্বর পোল্ডারের (চারদিকে নদীবেষ্টিত দ্বীপ অঞ্চল) অন্তর্ভুক্ত। এর পূর্ব পাশে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে কপোতাক্ষ ও উত্তর পাশে রয়েছে কয়রা নদী।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে খুলনার ৯টি উপজেলার ৮৩ হাজার ৫৬০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ক্ষতি শিকার হয়েছেন সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে কয়রা উপজেলা। সেখানে ৪০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ৮০ ভাগ এলাকাই প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অসহায় হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ।

আম্পানের আঘাতে কয়রার চারটি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২১টি পয়েন্টে নদী ভাঙনের কারণে এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঝড় ও বন্যার কারণে কয়রা উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের ছোটবড়ো ৫ হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed by M Host BD