বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণের শিকার শিশু সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা,সুষ্ঠু বিচার পায়নি পরিবার

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা

অনলাইন ডেস্ক : সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ গ্রামে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ধর্ষণকারীর নাম মো. আব্দুনুর মিয়া (৫৮)। সে ইউনিয়নের গনিগঞ্জ গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে।

সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গণিগঞ্জ গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্দুনুর মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ভিক্টিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণকারীর ঘরে স্ত্রী, ৫ ছেলে, ছেলের বউ, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনী থাকার পরও লম্পট আব্দুনুর ওই নাবালিকা শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটি বর্তমানে সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য সালিশের কয়েকজন মাতব্বরের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ও সুষ্ঠু বিচার পায়নি এই নির্যাতিত অন্তঃসত্ত্বা শিশু ও তার পরিবারের সদস্যরা। মনে হয় যে বিচারের বাণী নীরবে নিবৃত্তে কাঁদে। ঘটনাটি আনুমানিক ২০১৮ সালের ১০ জুন পরপর দুই রাতে ঘটে। এই ধর্ষণের ফলেই শিশুটি এখন সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দিনমুজুর বাবার সংসারে অনেক অপবাদ সইতে হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই নির্যাতিতা শিশুটির বাবা গ্রামের ৮ জন মাতব্বরদের কাছে ধর্ষণের ঘটনাটি জানান এবং সালিশে উপস্থিত সুধিজনদের নিয়ে বৈঠক বসে। এ সময় ধর্ষণকারীদের পক্ষ থেকে ভিক্টিমের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নিকাহ নামার মধ্য দিয়ে বিয়ে করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং চারমাস পূর্বে শিশুটির পরিবারকে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর বাকি টাকা দিয়ে কাবিননামা করে ধর্ষণকারীর ঘরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ঘটনার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও শিশুটির পিতা গ্রামের (মাতব্বর) সালিশদের দ্বারস্থ হলে এখন তারা বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন বলে ভিক্টিমের বাবা-মা সাংবাদিকদের নিকট এমন অভিযোগ করেন। তারা জানান, গণিগঞ্জ গ্রামের সালিশে মাতব্বর পূর্বহাটি গ্রামের মৃত ধনাই মিয়ার ছেলে আব্দুল মজিদ (৬০), পশ্চিমহাটির মরল বাড়ির লাল মিয়ার ছেলে আব্দুল আওয়াল (৫৫), তালেব আলীর ছেলে মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম (৫২), আব্দুল গফুরের ছেলে খইছা মিয়া মেম্বার, বাজার হাটির রবাই মিয়ার ছেলে কাহার মিয়া, নুরফর মিয়ার ছেলে আনজু মিয়া মিলে প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে ওই সালিশগণ উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন এবং ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে বিয়ের কাবিন নামার মাধ্যমে শিশুটিকে ধর্ষণকারী আব্দুনুরের কাছে বিবাহের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা সালিশদের শরণাপন্ন হলে গ্রাম্য বিচারকদের অনীহা, উদাসীনতার কারণেই এই অবুঝ শিশুটি এখন সন্তানের মা হতে চলেছেন বলে শিশুটির পিতামাতা গণমাধ্যম কর্মীদের এমন অভিযোগের কথা জানান।

এদিকে আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই এই নাবালিকা শিশুটি একটি সন্তানের মা হতে চলেছেন এমন ভাষ্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের। অন্তঃসত্ত্বা শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার (১৬ মার্চ) জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ধর্ষণকারীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সবকিছু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD