সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

নাজমা রহমানের স্মৃতিচারনে পলাশ

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

আজ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ সাবেক এই নেত্রীর স্মৃতিচারন করেন।

 

নাজমা রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণ করে পলাশ বলেন, স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যোগ দেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনকালীন ন্যাপের (মোজাফফর) কর্মী হিসেবে ছিলেন সক্রিয়। মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আন্দোলনে তার নিত্যদিনের কর্মকান্ড ছিল লক্ষনীয়। ১৯৭৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে নাজমা রহমানকে সংরক্ষিত নারী আসনে কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলে। ৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর অনেকেই শহর ছেড়ে আত্মগোপন করেন। কিন্তু তিনি রাজপথে থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চেয়েছিলেন।

নাজমা রহমান জীবনে কোনো রক্তচক্ষু ও কোনো স্বৈরাচারকে পরোয়া করেননি। ৮২ সালে স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৬ ও ৯১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়। নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী গণ-আন্দোলনে ভূমিকার জন্য নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকণ্যা বলা হতো অধ্যাপিকা নাজমা রহমানকে।

নাজমা রহমানের ভুমিকার স্মৃতিচারন করে পলাশ আরো বলেন, এ সময় ঢাকার পান্থপথে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশ নেন অধ্যাপিকা নাজমা রহমান। ওই মিছিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে বেদম লাঠিচার্জ করে। একটি কাঁদানে গ্যাস সিলিন্ডার তার মাথায় এসে লাগে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে যান। মাথার আঘাতটি ছিল বড় ধরনের ইনজুরি। চিকিৎসা নেওয়ার পর ভালো হয়ে যান। কিন্তু মাথার আঘাতটি তাকে মুক্তি দেয়নি। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ সাবেক এমপি এসএম আকরামকে আহ্বায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময়ে নাজমা রহমানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঘাতকরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। এই সমাবেশে অধ্যাপিকা নাজমা সমাবেশ মঞ্চ ট্রাকের পাশেই বেগম আইভি রহমানের কাছাকাছি ছিলেন। সেদিন ভাগ্যক্রমে তিনি রক্ষা পান। কিন্তু সেদিন তার পায়ে গ্রেনেডের কয়েকটি স্প্লিন্টার আঘাত করে। ২০১৬ সালের এ দিনে তিনি মারা যান।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed by M Host BD