শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আজ খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অসহায় কর্মহীনদের দরজায় কড়া নাড়লেন শ্রমিকনেতা পলাশ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৩১ দফা পালনের আহ্বানঃ শ্রমিক নেতা পলাশ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন: ৫ এপ্রিল (রবিবার) করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী‌র ৩১ দফা নির্দেশনা ২২২ বছর পর প্রথমবার বাতিল হতে যাচ্ছে হজ বাংলাদেশী আমেরিকান রাজনীতিবিদ ও লেখক ড. আলী রিয়াজের জন্মদিন করোনায় নারায়নগঞ্জে প্রথম নারীর মৃত্যু, এলাকা লকডাউন অসহায়দের পাশে বন্ধু হয়ে দাঁড়ালো ফ্রেন্ডস ফরএভার কর্মহীনদের দরজায় খাবারের বস্তা নিয়ে কড়া নাড়তে যাচ্ছেন শ্রমিক নেতা পলাশ কুতুবপুরে খাদ্য সামগ্রী বিতরনঃ প্রতিভা বিকাশ ক্লাব

পরিবেশগত কারণে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ সাতক্ষীরায় যেন পুরানো দিনের গল্প

পরিবেশগত কারণে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ সাতক্ষীরায় যেন পুরানো দিনের গল্প
শাপলা ফুল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার সকল এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ, এক সময় খাল বিলে অজস্র শাপলা ফুল দেখা যেত। লাল কিংবা সাদা শাপলা ফুল দেখে মুগ্ধ হন না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল। আর তার সাথে সাথে বিপন্নের পথে জলাভূমির ফল ‘ঢ্যাপ’। শাপলার ফলকেই ‘ঢ্যাপ’ বলা হয়। কিছু কিছু আ লিক নাম ‘ভেট’ বলা হয়।

এক সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ শাপলা ফুলের ডাঁটা তরকারি হিসেবে খেতেন। শুধু তাই নয়, এই ‘ঢ্যাপ’ আমাশয়, বদহজম এবং রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য বেশ কার্যকরী বলেও প্রচলিত রয়েছে গ্রামে।কিন্তু ‘শাপলা ফল’ বা ‘ঢ্যাপ’ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এখন।

মাঝে-মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রাামের বাজারগুলোতে ‘ঢ্যাপ’ বিক্রি করতে দেখা যায়। বিলে এখন স্বল্প পরিসরে শাপলা হয়। সেখান থেকেই শাপলা ও ঢ্যাপ সংগ্রহ করা হয়। এক হালি বা ৪টি ঢ্যাপের মূল্য ১০-১৪ টাকা দাম। প্রতিবছর এই সময়ে এই ফল বিক্রি করা হয়।

জানা গেছে এক সময় সাতক্ষীরা জেলায় অসংখ্য খাল-বিল ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভূমিদস্যুদের দাপটে আর দখলের কারণে খাল আর দেখা মেলে না,এসব খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল ফুটত। এতে পাওয়া যেত প্রচুর পরিমাণে ঢ্যাপ। কিন্তু আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বিল আর খাল, আবার দখল ও হচ্ছে তার সাথে সাথেও হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ।

শাপলার ফল বা ঢ্যাপ দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খই ভাজা হয়। যেটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে ‘ঢ্যাপের খই’ নামে পরিচিত। এই ঢ্যাপের মধ্যে অসংখ্য বীজদানা থাকে। এসব বীজদানা রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ঢ্যাপের পুষ্টিকর চাল থেকে তৈরি করা খই ও নাড়ু অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার, খাল-বিল ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো ধ্বংসই এ সুস্বাদু ঢ্যাপ বিলুপ্তি হচ্ছে বলে সাতক্ষীরা জেলার অনেকেই মনে করেন।

বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, যখন অভাব দেখা দিত তখন আমরা শাপলার ভেট দিয়ে ভাত ও খই বানিয়ে খেতাম। কিন্তু এখন তো এইগুলো দেখাই যায় না।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা অথচ এমন দিন আসবে ছেলে মেয়েরা শাপলা ফুল বাস্তবে দেখতে পাবেনা, পাবে বইতে। কিন্তু কি হবে বইতে দেখে, তাই সাতক্ষীরার সকল খাল গুলো খনন করতে হবে এবং পর্যাপ্ত শাপলা ফুল ফুটবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, শাপলা ফুল আমাদের জাতীয় ফুল। এটির বিস্তার ঘটানো আমাদের দরকার। এছাড়া ঢ্যাব একটি পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু পরিবেশ বা আবহাওয়াগত কারণে খালবিল, নদীনালা, জলাশয় গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আর এই কারণে আগের মতো দেখা যাচ্ছে না শাপলা, ঢ্যাপের।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD