বুধবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

বাংলাদেশের জনসম্পদ তৈরীতে মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্ব

ছবি : সংগৃহীত ।

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্ক : ‘মাদরাসা’ শব্দটি ‘দরসুন’ শব্দ থেকে এসেছে । যার অর্থ-পড়াশোনা করা। আরবী ভাষার ব্যাকরণ নাহ্বু অনুসারে ‘‘মাদরাসা’’ শব্দটি সরফে মকাস। সে মতে, তার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় পড়াশোনার স্থান, পাঠশালা বা বিদ্যালয়। অতএব যে স্থানে ইলসে দীন কুরআন-সুন্নাহ, তাফসীর, উসূলে তাফসীর, উসূলে হাদীস, ফিকাহ, উসূলে ফিকাহ, ফাসাহাত-বালাগাত, নাহবু- সর্ফ এবং সান্তিক প্রভৃতি শিক্ষা দেয়া হয়, তাকে মাদরাসা বলা হয়। ‘‘মাদরাসা’’ শব্দটি বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে বহুল আলোচিত ও বহুল পরিচিতি।

শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। যে জাতি যত শিক্ষিত,সে জাতি ততই উন্নত ও সভ্য। তবে হতে হবে সুশিক্ষিত। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার আলোই দেশ ও জাতির সফলতার চাবিকাঠি ও পথনির্দেশক। পারত্রিক কল্যাণের স্বর্ণ দুয়ারে করায়াত্তের ও শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা মানুষকে প্রদান করে সাহায্য ও মর্যাদা। শিক্ষা-দীক্ষা মানুষকে উন্নত থেকে উন্নততর জাতিতে পরিণত করে। মহান আল্লাহ শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞানার্জেনের প্রতি পবিত্র কুরআনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিশ্ব মানবতাকে করেছেন উৎসাহিত।

মাদরাসার সর্বপ্রথম গোড়াপত্তন হয় আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বৎসর পুর্বে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) সর্বপ্রথম মক্কার এক নির্জন পাহাড়ের পাদ দেশে দারুল আরকাম’ নামে মাদ্রাসা চালু করেন।

উপমহাদেশে এ মাদ্রাসা চালু হয় সুলতানী আমল ১২০৬ সালে মসজিদগুলোতে এবং প্রথম আনুষ্ঠানিক ১৭৮০ সালে লর্ড ওয়ারেন হষ্টিং কতৃক কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। যা বর্তমানে মাদ্রাসাই আলিয়া ঢাকা নামে পরিচিত। ১৮৬০ সালে ইংরেজ শাসকদের ফৌজদারী ও দেওয়ানী আইন চালু হলে ইংরেজ সরকারের নিকট মাদ্রাসা শিক্ষা অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ১৯২৮ সালে সেন্ট্রাল বোর্ড অব মাদ্রাসা একজামিনেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭ সালে কলকাতা আলিয়া বাংলাদেশর রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বাংলার আপামর জনতার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের অভিভাবকত্তে ‘ বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন ১৯৭৪’ মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন,প্রসার ও মাদ্রাসা বোর্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে ৯০০০ হাজার দাখিল মাদ্রাসা ৩৫০০ আলিম মাদ্রাসা ১৫০০ ফাযিল মাদ্রাসা ও ৩০০ কামিল মাদ্রাসা চালু রয়েছে। যার মধ্যে ০৩ টি সরকারী আলিয়া।

বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অন্যতম শিক্ষা উপধারা হল মাদরাসা শিক্ষা । এটি মুলত ইসলামী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা যা সাধারন শিক্ষার মতই প্রাথমিক স্তর থেকে স¥াতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত । শিক্ষার্থীদের মধ্যে আল-কোরআন ও হাদীসের প্রতিফলন ঘটিয়ে তাদের দৈহিক,মানসিক,সামাজিক,আধ্যাত্মিক,নৈতিক ও মানবিক দিকের সর্বাঙ্গীন বিকাশ মাদরাসা শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য ।

বাংলাদেশে প্রান্তিকে পড়ে নেই এখন আর মাদরাসা শিক্ষা। আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যুগে পিছিয়েও নেই এই শিক্ষা। শুধু গ্রামীণ ও গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা নয়; বিত্তশালী পরিবারের ছেলে মেয়েরাও মাদরাসায় পড়ে ডিগ্রি নিচ্ছে। দেশের সাধারণ শিক্ষার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই এগিয়েও চলছে মাদরাসাগুলো। অর্নাস চালু, যুগোপযোগী পাঠ্যবই, আইসিটি শিক্ষা, ল্যাবরেটরি, আধুনিক শিক্ষা সবকিছুই এখন মাদরাসায় হচ্ছে। মাদরাসার ছাত্ররা বিসিএস পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা দিয়ে সাফল্য দেখাচ্ছে।

শুধু কি তাই! মাদরাসা পড়–য়া ছাত্রছাত্রীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় মেধার পরিচয় দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে মাদরাসা শিক্ষার অগ্রগতি পাল্টে দিয়েছে দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার চালচিত্র। মাদরাসা শিক্ষার উত্তরোত্তর সাফল্যই শুধু নয়; ক্লাসে নৈতিকতা ও মানবিকতাবোধের শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়ায় এখান থেকে শিক্ষিতরা অন্যদের মতো অনৈতিকতা জড়াচ্ছে না; মাদকের দিকে ঝুটছে না। যা দেশের নীতি নির্ধারকদের দারুণ ভাবে নজর কেড়েছে। তাছাড়া জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মাদ্রাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামীদিনে একটি সুন্দর-সাবলীল সমাজ ও জাতি গঠনে মাদরাসা শিক্ষার অবদান অপরিসীম ।

লিখেছেন : ইমানুর রহমান,শিক্ষা গবেষণা বিভাগ,সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,পাবনা ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD