বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
নওগাঁ-৬ আসনে আ.লীগ প্রার্থী আনোয়ারের জয়, হরতালের ডাক বিএনপির সমাজে ধর্ষণ বন্ধে ব্যাপক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠছে কাল পদ্মা সেতু এখন বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান দৃশ্যমান বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করতে চায় বাংলাদেশঃ প্রধানমন্ত্রী ভিপি নুর’কে গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগে অবরোধ ধর্ষণ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সরকার তৎপরঃ মহিলা প্রতিমন্ত্রী সরকারি ২৬ দফা নির্দেশনা মেনে দুর্গোৎসব পালন করতে হবেঃ শাহাব উদ্দিন করোনায় আক্রান্ত তাহসান, ভক্তদের নিকট চেয়েছেন দোয়া বামধারার ছাত্র সংগঠনের ধর্ষণবিরোধী ৯ দফা দাবি

বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের সাজা কেমন

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

সাম্প্রতিক সময়ে যেন ধর্ষণের প্রতিযোগিতা চলছে দেশে দেশে। সারা বিশ্বে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত গতিতে। নীতি আর নৈতিকতা হারিয়ে গেছে যেন এই পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে। তারপরও এই নৈতিকতার অবক্ষয় রুখতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরকম শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ: ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ নামের একটি আইন রয়েছে বাংলাদেশে। সেই আইনে বলা হয়েছে, যদি কোন পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

এই আইনের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে বিডিলস নামের একটি সরকারি ওয়েবসাইটে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত (ষোল বছরের) অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা (ষোল বছরের) কম বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হবেন।

আরো বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন। আবার কেউ যুদি ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

আইনের ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোনো নারী ধর্ষিতা হন, তাহালে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বছরের কিন্তু অন্যুন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অন্যুন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

ভারত: ২০১৩ সালে ধর্ষণবিরোধী আইন পাশের পর থেকে ভারত ধর্ষণের শাস্তি আগের চেয়ে আরো কঠোর করেছে। ধর্ষককে সাজা হিসেবে ৭ বছর থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে বিরল হলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আইন রয়েছে।

সৌদি আরব: সৌদি আরবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রায় ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই জনসম্মুখে শিরচ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে তার আগে দোষীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে দেয়া হয়।

ইরান: ইরানে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া আইন আছে সে দেশে।

চীন‌: চীনে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলেই সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সে দেশে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আরেকটি শাস্তি রয়েছে পুরুষাঙ্গচ্ছেদ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: আরব আমিরাতের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

আফগানিস্তান: আফগানিস্তানে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ধর্ষকের মাথায় গুলি করে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে। চারদিনের মধ্যেই ধর্ষকের এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

ফ্রান্স: ধর্ষণের শাস্তি ১৫ বছরের কারাদণ্ড। তবে ঘটনায় ক্ষতি ও নৃশংসতার বিচারে তা ৩০ বছর পর্যন্ত বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

নেদারল্যান্ডস: যে কোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন, এমনকি অনুমতি ছাড়া জোর করে চুম্বন করাও নেদারল্যান্ডসে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। এর শাস্তি হিসেবে অপরাধীকে বয়সের উপরে ভিত্তি করে ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

উত্তর কোরিয়া : অভিযোগ, গ্রেপ্তার আর তারপর অভিযোগ প্রমাণ হলে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মঙ্গোলিয়া: ধর্ষিতার পরিবারের হাত দিয়ে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মিশর: ধর্ষককে জনসমক্ষে ফাঁসি দেয়া হয়।

ইসরায়েল: দোষ প্রমাণ হলে ১৬ বছরের কারাদণ্ড। সে দেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা কিছুটা বর্ধিত। অন‌্য যৌন নির্যাতনও এর অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র: স্টেট ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার ভিন্ন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী দোষীর সাজা কয়েক বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবনও হতে পারে।

রাশিয়া: ধর্ষকের তিন থেকে ছয় বছরের কারাদণ্ড। তবে পরিস্থিতির বিচারে তা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। যদি ধর্ষকের আচরণ অত‌্যন্ত নৃশংস হয়ে থাকে, তবে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

নরওয়ে: সম্মতি ছাড়া যে কোনো যৌনতা ধর্ষণের মধ্যে পড়ে। নৃশংসতা অনুযায়ী দোষীর তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়।

গ্রিস‌: গ্রিসে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার একমাত্র শাস্তি আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD