বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

আ.লীগের ভাবমূর্তি রক্ষায় মীর সোহেলের বহিঃস্কারের দাবি ত্যাগী নেতাকর্মীদের

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

বর্তমান নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফতুল্লা থানার যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেল আলী ছিলেন ফতুল্লা থানার ছাত্রদল সভাপতি। আওয়ামীলীগে পদ দেওয়ার আগে রাজনৈতিক কর্মকান্ড যাচাই করার নির্দেশনা থাকা স্বত্ত্বেও অন্য একটি দলের নেতা থেকে কিভাবে আওয়ামীলীগের মত ঐতিহ্যবাহী একটি দলের প্রধান দায়িত্বে বসতে পারে? যেখানে আওয়ামীলীগের মত একটি দলের কর্মী হওয়াই দুঃস্কর বিষয়, সেখানে মীর সোহেল আলীর মত একজন অনুপ্রবেশকারী কিভাবে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের এত বড় একটি পদে আসিন হয় সেটাই জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিটি ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন।

অন্য একটি দল থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে নেতা বনে যাওয়া এই মীর সোহেল আলী আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা পরিচয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নানা ধরনের অপকর্ম। তার ছত্র ছায়ায় পালিত হচ্ছে অসংখ্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ সহ মাদক ব্যবসায়ী। এতে ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হচ্ছে দলের ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন নেতাদের। সেহেতু ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তী যাতে আর নষ্ট করতে না পাড়ে এরকম অনুপ্রবেশকারীরা, তাই দলের ভাবমূর্তী রক্ষায় মীর সোহেল আলী সহ সকল অনুপ্রবেশকারীদের বহিঃস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানান দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা। বিডি নিউজ ৭১ কে এমনটাই জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামীলীগের কিছু নেতা।

 

এরই মধ্যে মীর সোহেল আলীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে। থানার ভেতর মারধরের শিকার ব্যবসায়ী সিকদার সেলিম বাদী হয়ে ১৭ই নভেম্বর বিকেলে এই মামলাটি করেন। এতে তার সহযোগী শাহীন সহ ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগী হলেন ফতুল্লা থানাধীন পাগলা বউবাজার এলাকার আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে চাঁদ সিকদার সেলিম। তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের নারায়নগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্র জানায়, গত বৃহঃবার বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লার কতুবপুর ইউনিয়নের মীর হোসেন মীরুর বাহিনী বউবাজার এলাকার এক মুরাদ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি ও গালাগালি করে। এই ঘটনায় মুরাদ সেদিনই বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মুরাদের ভাই সিকদার সেলিম জানায় মামলা দায়েরের পর এসআই মিজান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শুক্রবার রাতে থানায় যেতে বলেন। কথামত শুক্রবার থানায় গেলে সেখানেই মীর সোহেল আলী, শাহীন সহ বেশ কয়েকজন তাকে মারধর করে। তখন তাকে মারতে মারতে থানার গেটে নিয়ে আসে আবার সেখান থেকে মারতে মারতে থানার ওসি তদন্ত রুমে নিয়ে গিয়ে লক আপে ঢুকাতে বলে।

নির্যাতনের শিকার সেলিম বাদী হয়ে মীর সোহেল, শাহীনসহ ১০-১৫ জনকে আসামী করে মারধর ও প্রাণনাশের মামলা দায়ের করেন।

 

এ ব্যপারে মীর সোহেল আলী মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন তিনি সেলিমকে তার অফিসে ডাকেন কিভাবে ব্যপারটি নিষ্পত্তি করা যায় সে বিষয়ে কথা বলবেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা(ওসি) আসলাম হোসেন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

 

২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর সুবিধা বুঝে তৎকালীন সাংসদ কবরীর বলয়ে চলে যান এই মীর সোহেল। তার বাবা মীর মোজাম্মেল নিজে কবরীর হাতে তুলে দেন মীর সোহেলকে। এর পরেই ফতুল্লার দাপা ঘাট এলাকায় অবস্থিত রশিদ ও কাশেমের ঘাট ও দোকান দখল করে নেয়। তখন ঐ ঘটনায় মীর সোহেল ফতুল্লা থানার যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি এখন ফতুল্লার অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। থানার পাশেই গড়ে তুলেছেন সাব থানা এবং চালিয়ে যাচ্ছে সকল কর্মকান্ড।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলে ক্লিন ইমেজ নেতাদের রাখার জন্য যে শুদ্ধি অভিজান চালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে মীর সোহেলের মত অনুপ্রবেশকারীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাবে এমনটা আশা করেন না নারায়নগঞ্জ জেলার আওয়ামীলীগের কেউই।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD