সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৩:০১ অপরাহ্ন

মে দিবস সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে শেখায়ঃ পলাশ

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

১লা মে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস অথবা মে দিবস। প্রতি বছর নানা আয়োজনে মহান মে দিবস পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলা এখন সারা বিশ্বের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই অজানা এই শত্রুর মোকাবিলায় ব্যাস্ত। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিপর্যস্ত বিশ্বে এবার মহান মে’ দিবস কোনো আয়োজন ছাড়াই উৎযাপিত হবে।

জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনাটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্সের কেন্দ্রিয় সভাপতি আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, মে’ দিবস মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে ও শ্রমিক শ্রেণীর ওপর নির্যাতন, বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়।

বিশিষ্ট এই শ্রমিক নেতা আরো বলেন, সরকার ও মালিক পক্ষকে মহান মে’ দিবসের শিক্ষানুসারে বাংলাদেশের শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী জনগণের অবদান বিবেচনা করে তাদের প্রাপ্য অধিকার, ন্যায্য মজুরী ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও করোনা সংকটের মাঝে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া পরিশোধের দাবি এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মত ঘৃনিত কাজ থেকে মালিক পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

শ্রমিক নেতা পলাশ শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনে, দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল বাংলাদেশি শ্রমিকসহ সারা বিশ্বের শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

 

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের ইতিহাসঃ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যা সচরাচর মে দিবস নামে অভিহিত। প্রতি বছর পয়লা মে তারিখে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদযাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়।

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আটঘণ্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়।

১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এর পরপরই ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

পরে, ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আটঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পয়লা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে “শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না-খাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না-করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনেক দেশে শ্রমজীবী জনতা মে মাসের ১ তারিখকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের দাবি জানায় এবং অনেক দেশেই এটা কার্যকর হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট এবং কিছু কট্টর সংগঠন তাদের দাবি জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসাবে বেছে নেয়। কোনো কোনো স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে। পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চিন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সেসব দেশে এমনকি এ উপলক্ষ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ এবং ভারতেও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে।

বাংলাদেশে মে দিবসে সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়ে থাকেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন দিনটি পালন করতে শোভাযাত্রা, শ্রমিক সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে থাকে। মে দিবসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল , ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফেডারেশন সহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed by M Host BD