বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৭ বছর, ইউএফজিডব্লিউ এর শোক

বিডি নিউজ ৭১ ডেস্কঃ

বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ট্রাজেডির ৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের এই দিনে সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১৩৬ জন শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন। আহত হন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক।

রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে আহত এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জ্ঞাপন এবং নিহতদের বিদেহীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেন জাতীয় শ্রমিকলীগ নেতা এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স (ইউএফজিডব্লিউ) এর কেন্দ্রিয় সভাপতি আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ।

 

উল্লেক্ষ্য, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রানা প্লাজা ভবনটি ছিল ৯ তালার। ভবনটির তৃতীয়তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পোশাক শ্রমিক কাজ করতেন। সকালে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে ভবনটি। ধসে পড়া ভবন থেকে ১ হাজার ১১৭ টি মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ১৯ জন মারা যায়। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যাদের মধ্যে পঙ্গুত্ব বরণ করেন ১ হাজার ১৬৯ জন শ্রমিক।

 

সেই সময়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেই অনুদান হিসেবে ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিলো৷ এছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও দাতা সংস্থা উদ্ধার কাজে খরচ করেছিলো ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা৷” সরকার রানা প্লাজার ওই ঘটনায় প্রথম থেকেই আন্তরিক ছিলো।

সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় গুরুতর আহত ৩৬ জনকে সরকারি উদ্যোগে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছিলো৷ তাছাড়া ৭৯৮ জন নিহতের পরিবারের এক হাজার ৯৯ সদস্যকে ১২ কোটি সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিলো৷ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া ১৬৪ জন নিহতের ২২৮ জন আত্মীয়কে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিলো৷ স্বেচ্ছাসেবক এমাজউদ্দীন চৌধুরী কায়কোবাদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া ও চিকিত্‍সা বাবদ খরচ হয়েছে এক কোটি ৬ লাখ টাকা ৷ যদিও তাঁকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি৷ পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ১২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলো সরকার ৷

রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় আহতদের চিকিত্‍সার জন্য ২২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিল হিসেবে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলো সরকার৷ ডিএনএ প্রোফাইলিং করতে সরকার দিয়েছিলো অর্ধ কোটি টাকা৷ এছাড়া উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দেয়া সেনাবাহিনীকে উদ্ধার কাজের খরচ হিসেবে দেয়া হয়েছিলো ১ কোটি ২১ লাখ ৩৬ হাজর টাকা৷ ঢাকা জেলা প্রশাসন উদ্ধার কাজে খরচ করেছিলো ২ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা৷ উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস পেয়েছিলো ২৫ লাখ টাকা৷ আর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার পেয়েছিলেন ২৭ লাখ টাকা৷ সব মিলিয়ে উদ্ধার কাজে খরচ হয়েঞ্ছিলো ৪ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার টাকা৷ এই টাকা দিয়েছিলো সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা৷

তবে শুধু সরকারই নয়, বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-ও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন, ক্ষতিপূরণসহ আনুসঙ্গিক খরচ করেছিলো প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা৷

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed BY N Host BD