মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

শুভ জন্মদিন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাঃ পলাশ

শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিনে শ্রমিক নেতা পলাশের শুভেচ্ছা

বিডি নিউজ ৭১ (স্টাফ রিপোর্টার):

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান। দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ। পাশাপাশি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। পিতার মৃত্যুর পর বহু যুদ্ধ করে দেশে ফেরেন তিনি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে। ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৮ বঙ্গাব্দ, রোববার দেশে ফিরে আসার পর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ওই বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। তারপর আরও দুটি নির্বাচন এলো, বঙ্গমাতা তনয়া শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ বাংলার।

যদিও এতো সহজ ছিল না শেখ হাসিনার পথচলা। ছোটবেলা থেকে বাবার সান্নিধ্য পাননি তিনি। পিতা মুজিব তখন ব্যস্ত দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে, খাটছেন জেল-জুলুম। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দীর্ঘ সংগ্রামের অবসান হয় বঙ্গবন্ধু পরিবারের। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর ১৯৭৫ সালে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করেন পরিবারের সান্নিধ্যে। পরদিন দেশের মাটিতে ঘটে যায় সবচেয়ে বড় ন্যক্কারজনক ঘটনা।

কিছু অসাধু সেনা কর্মকর্তার এক সামরিক অভ্যুত্থানে হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা রেহানা ছাড়া নিহত হন তার পরিবারের সবাই। ভোরের আলো অন্ধকার হয়ে নামে শেখ হাসিনার জীবনে। এরপর ২১ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ১৯৯৬ সালে এ দের কাণ্ডারী হন তিনি।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন-
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধানের রাজনৈতিক জীবন প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী বিস্তৃত।  ১৯৬৭ সালে ঢাকার বকশী বাজারের ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) অধ্যয়নকালে তিনি কলেজছাত্র সংসদের সহ-সভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। তিনি এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন।

একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ছয় দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।

শেখ হাসিনা স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন ও ১৯৯০ সালে অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এর মধ্যে তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ ও ১৯৯১-১৯৯৬ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

তারপর ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। বিরোধী দলে থাকার সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় এক জনসভায় তার ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। এ হামলায় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ১৯ জন মৃত্যুবরণ করেন ও শতাধিক আহত হন। এই গ্রেনেড হামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে করার জন্য ‘জজ মিয়া’ নাটকসহ বেশকিছু প্রহসন সৃষ্টি করেছিল তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোট প্রশাসন।

পরবর্তীতে দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু, যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, জঙ্গী নেতা মুফতি হান্নানসহ বেশকিছু তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম। তারা এ হামলার নেপথ্যে ছিলেন।

এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হন ২০০৭ সালে। ২০০৮ সালে জেল থেকে মুক্তিলাভের পরে তিনি চিকিৎসার্থে কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন। এরপর দেশে ফিরে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন। এ বছর নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। গত ১৪ বছর ধরে শেখ মুজিব ও বেগম মুজিবের হাসু দৃঢ় চেতনায় দেশের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সম্মাননা প্রাপ্তি-
শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২০১৭ সালে তিনি ছিলেন ৩০ তম। ২০১৮ সালে ২৬; ২০১৯ সালে ২৯ ও ২০২০ সালে তার অবস্থান ছিল ৩৯ তম স্থানে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ফরেইন পলিসি নামক সাময়িকীর করা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০ বৈশ্বিক চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা জায়গা করে নিয়েছেন।

বিশ্বের নানা দেশ থেকে সম্মান সূচক ডিগ্রি অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।   এছাড়া ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ডিপ্লোমা প্রদান করে।

শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের ১২ জনের তালিকায় নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরিপে তিনি বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান-
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। তার সাহসিকতা, বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলেই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু আজ উত্তাল পদ্মার বুকে জাতির গৌরবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তিনিই বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস এনে দিয়েছেন। পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়নের পথ ধরে কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে তিনি রূপকল্প ‘ভিশন ২০২১’ এর সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ‘ভিশন ২০৪১’ কর্মসূচিসহ বাংলাদেশ ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা (ডেল্টা প্লান ২১০০) গ্রহণ করেছেন। আজকের এ দিনে বাংলাদেশ তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। শুভ জন্মদিন বঙ্গকন্যা।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2018 bdnews71
Design & Developed by M Host BD